জনাব সেলিম একজন সাংবাদিক। তিনি দেশের বিভিন্ন সংবাদ সংগ্রহ করেন এবং এ সংবাদ খবরের কাগজের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে প্রচার করেন। নতুন নতুন কলাম লিখে তিনি পাঠকের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়েছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী বাড়িতে 'সেলাইয়ের কাজ করেন।
আত্মবিশ্বাসী মানুষের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো 'নিজের প্রতি আস্থা'। নিজের প্রতি আস্থাবান মানুষ ভালো কিছু করতে পারে। নিজের কাজ নিজে করার মধ্য দিয়ে দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জিত হয়। সেই সাথে সম্পাদিত কাজে যদি অন্যের স্বীকৃতি পাওয়া যায় তাহলে নিজের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়।
কামরুলের কাজের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার দিকটি লক্ষণীয়। কোনো কাজকে নতুনভাবে নিজের মতো করে তৈরি করা বা উপস্থাপন করাই হলো সৃজনশীলতা। সৃজনশীল মানুষই পারে নতুন কিছু করতে, নতুনভাবে চলতে। মানুষের এই আধুনিক যুগে পদার্পণের পেছনেও সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও নিত্যনতুন আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। উদ্দীপকের কামরুল আসবাবপত্র তৈরি করেন। তিনি তার শেখা বিভিন্ন বিষয়কে অবলম্বন করে নিজের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন ডিজাইনের আসবাবপত্র তৈরি করেন যা তার সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করে। তিনি নতুন নতুন কাজের ফরমায়েশ নেন। নতুন ডিজাইনের আসবাবপত্র সকলেই পছন্দ করে। আর কামরুলের নতুন ডিজাইনের আসবাবপত্র তৈরির কারণে প্রায়ই তাকে-ফরমায়েশদাতারা বাহবা দিতেন। তাই বলা যায়, কামরুলের কাজের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার দিকটি লক্ষণীয়।
কাজের ক্ষেত্রে জামিলের পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি তাকে সৃজনশীল ব্যক্তি হিসেবে প্রকাশ করে না। জামিলের কাজ সৃজনশীল নয়।
যারা সৃজনশীল নয় তারা ঝুঁকি নেয় না। তারা চেনা পথে হাঁটে, জানা কাজ করে। অন্যকে অনুকরণ করে। যারা সৃজনশীল নয় তারা সবসময় পুরস্কারের আশায় কাজ করে। পক্ষান্তরে যারা সৃজনশীল তারা সবসময় নতুন কিছু করতে চায়। নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দেয়। সৃজনশীল কাজ করেই তারা মজা পায়, তারা কাজ পাওয়া বা কাজ করতে পারাটাই পুরস্কার মনে করে। জামিল কাজ করার ক্ষেত্রে নূরুল ইসলাম সাহেবকে অনুকরণ করেন। কাজের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যায় পড়লে নিজে তা সমাধান করতে পারেন না। ফলে তিনি নূরুল ইসলাম সাহেবের শরণাপন্ন হন। তিনি তার কাজের ক্ষেত্রে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা করেন না। এতে করে তিনি আসবাবপত্রের নকশায় নতুনত্ব আনতে পারেন না। নতুন কিছু তৈরি করতে অনেক ঝুঁকি কাজ করে। যেহেতু জামিল একই ধরনের কাজ করে থাকেন সেহেতু তাকে কোনো ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়নি। এজন্য তিনি অনেকের প্রশংসা পান। তবে নতুনত্ব না থাকায় কাজের ক্ষেত্রে জামিলের পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি তাকে সজনশীল ব্যক্তি হিসেবে প্রকাশ করে না।
কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রাচীন মানুষ বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা অর্জন করেছিল। তারা কায়িক শ্রমের মাধ্যমে গুহা খনন করে বসবাস করছে। পরবর্তীতে বসবাসের উপযোগী জায়গা নির্বাচনের পর সেখানে বসতবাড়ি গড়ে তোলার জন্য কায়িক পরিশ্রম করত। এছাড়াও কায়িক শ্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করত। এরূপ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানোর জন্য কায়িক পরিশ্রম প্রয়োজন
আমাদের এই মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় মেধাশ্রমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেলিম তার মেধা ব্যবহার করে বিভিন্ন সংবাদ সংগ্রহ করে বিভিন্ন খবরের কাগজে প্রকাশ করেন। বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটান। সংগৃহীত তথ্য থেকে তিনি বিভিন্ন বিষয় সংযোজন বিয়োজন করে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করেন। এসব তথ্য সংগ্রহ করার জন্য প্রয়োজন বুদ্ধি, নিত্যনতুন চিন্তা করার ক্ষমতা, মাথা খাটানো এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ। মেধাসম্পদের মাধ্যমে মানুষ বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে পারে, বিভিন্ন বিষয়ে লিখতে পারে। মেধাশ্রমের মাধ্যমে নতুন কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব হয়। যেমন-প্রাচীনকালে মানুষের চাকা আবিষ্কার এবং তা নিজের কাজে লাগানো মেধাশ্রমের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। চাকা আবিষ্কার করার জন্য আবিষ্কারকদের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় এটা করা হয়েছে তা আসলে মেধাশ্রম। ঠিক তেমনি জনাব সেলিমকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করতে হয়। সুতরাং উদ্দীপকের জনাব সেলিমের শ্রম এক ধরনের মেধাশ্রম।